School Teachers On Duty Court Order: স্কুলের শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না—আদালতের নির্দেশে এমনই অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে একইসঙ্গে পড়ুয়াদের নিয়মিত পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, শিক্ষক নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই ধরা হবে, কাজ প্রত্যাখ্যান করা যাবে না—তবে স্কুলের পড়াশোনাও যাতে থমকে না যায়, সেদিকেও নজর আদালতের ।
জনগণনার কাজে স্কুলশিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। তার মধ্যেই শুক্রবার, ২১ আগস্ট, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যে শিক্ষককে জনগণনার কাজে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁকে সেই কাজ করতে হবে এবং এই দায়িত্বকে স্কুলের ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য করতে হবে।
অর্থাৎ, জনগণনার দায়িত্ব পাওয়ার পর শুধুমাত্র এই কারণ দেখিয়ে যে এটি স্কুলের নিয়মিত পড়ানোর কাজ নয়, দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত বলেই গণ্য করা হবে।
আগে থেকেই জানাতে হবে দিন-সময়-জায়গা (School Teachers On Duty Court Order)
তবে আদালত শুধু শিক্ষকদের দায়িত্বের কথাই বলেনি। জনগণনার কাজে কবে, কতক্ষণ এবং কোথায় যেতে হবে—সেই তথ্য আগেভাগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। জনগণনার কাজে শিক্ষকরা যুক্ত থাকলে স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
তাহলে কি স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে? (School Teachers On Duty Court Order)
এই প্রশ্নটাই গত কয়েকদিনের বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কারণ এর আগে কলকাতা হাইকোর্টই প্রশ্ন তুলেছিল, স্কুলের স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে পাঠালে পড়াশোনার কী হবে। আদালত একসঙ্গে একটি স্কুলের সমস্ত শিক্ষককে এই কাজে না লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিল। প্রয়োজনে পুরসভা, পঞ্চায়েত বা অন্য কর্মীদের কাজে লাগানোর কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
অন্যদিকে জনগণনা দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিক্ষকদের এই কাজটি সম্মানীভিত্তিক (honorarium-based) দায়িত্ব এবং এটি তাঁদের নিয়মিত ডিউটি আওয়ারের অংশ নয়। এই অবস্থান নিয়েই শিক্ষকদের মধ্যে আপত্তি তৈরি হয়েছিল।
আজকের নির্দেশে কোন বিষয়টি পরিষ্কার হল? (School Teachers On Duty Court Order)
আজকের নির্দেশের মূল বিষয় হল—কোনও শিক্ষককে জনগণনার কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত করা হলে সেই দায়িত্বকে স্কুলের ডিউটি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না। একইসঙ্গে প্রশাসনকে এমনভাবে দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে যাতে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থাও অচল না হয়ে যায়।
ফলে একদিকে জনগণনার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ, অন্যদিকে স্কুলের পঠনপাঠন—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন মূল বিষয়। (School Teachers On Duty Court Order)
শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে গত কয়েকদিনের টানাপোড়েনের পর হাইকোর্টের এই নির্দেশে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হল—দায়িত্ব দেওয়া হলে কাজ করতে হবে, তবে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্কুলের পড়াশোনাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
#SchoolTeachers #OnDuty #CourtOrder #EducationNews #TeacherDuty #SchoolEducation #CourtVerdict #StudentEducation
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

