Sleeping in Separate Beds: নাক ডাকা, ঘনঘন ঘুম ভাঙা ও খারাপ স্লিপ কোয়ালিটির কারণে দাম্পত্য জীবনে বাড়তে থাকা বিরক্তি, রাগ আর দূরত্বের মাঝে ‘স্লিপ ডিভোর্স’ কি সত্যিই সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়, নাকি আলাদা বিছানায় ঘুমিয়ে ভালো ঘুম, স্থির মেজাজ, মানসিক শান্তি ও একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ফিরিয়ে এনে আধুনিক দম্পতিদের সম্পর্ককে আরও সুস্থ, টেকসই ও বোঝাপড়ায় ভরপুর করে তোলার একটি বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান হয়ে উঠছে?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাতে ঘুম আসছে না। পাশের মানুষটির নাক ডাকার শব্দে বারবার ভেঙে যাচ্ছে ঘুম। সকালবেলা উঠে মেজাজ খারাপ, মাথা ভার, কাজের এনার্জি নেই—এমন অভিজ্ঞতা এখন বহু দম্পতিরই। আধুনিক জীবনের স্ট্রেস, অনিয়মিত রুটিন, মোবাইল স্ক্রিন আর ঘুমের সমস্যার মাঝে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ট্রেন্ড—‘স্লিপ ডিভোর্স’ (Sleep Divorce)। নাম শুনে যতটা ভয়ংকর মনে হয়, বাস্তবে বিষয়টা কি ততটাই সম্পর্ক-বিধ্বংসী? নাকি উল্টোভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এক বাস্তব সমাধান?
বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খারাপ ঘুম শুধু শরীর নয়, সম্পর্কের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ঠিকমতো না ঘুমোলে বিরক্তি, রাগ, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই অনেক দম্পতি বেছে নিচ্ছেন Sleeping in Separate Beds—মানে রাতে আলাদা বিছানায় ঘুমানো। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এতে কি আবেগের দূরত্ব বাড়ে, নাকি সম্পর্ক আরও সুস্থ হয়? এই প্রতিবেদনে জানবেন স্লিপ ডিভোর্স আসলে কী, কেন এটি জনপ্রিয় হচ্ছে, এবং কীভাবে এটি ঘুম ও মেজাজ ভালো রেখে সম্পর্ক বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
‘স্লিপ ডিভোর্স’ কী?
‘স্লিপ ডিভোর্স’ কথাটার সঙ্গে আইনি ডিভোর্সের কোনও সম্পর্ক নেই। এখানে আলাদা হওয়া শুধু ঘুমের সময়টুকুর জন্য। দিনের বাকি সময় দম্পতির সম্পর্ক, ভালোবাসা, দায়িত্ব—সবকিছু আগের মতোই থাকে। শুধু রাতে, ভালো ঘুমের স্বার্থে আলাদা বিছানা বা আলাদা ঘরে ঘুমানো হয়।
এই ধারণাটি প্রথম জনপ্রিয় হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে, যেখানে ব্যক্তিগত ঘুমের মান (Sleep Quality) ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জোর দেওয়া হয়। এখন ভারতসহ এশিয়ার শহুরে দম্পতিরাও বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি ভাবছেন। কারণ বাস্তবতা একটাই—ভালো ঘুম না হলে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন।
নাক ডাকা, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম, আলাদা ঘুমের সময়সূচি (একজন নাইট শিফটে কাজ করেন, অন্যজন সকালবেলা ওঠেন), অতিরিক্ত আলো বা এসির তাপমাত্রা—এসব ছোট ছোট বিষয় থেকেই শুরু হয় বড় বিরক্তি। স্লিপ ডিভোর্স এই সমস্যাগুলোর একটি প্র্যাক্টিক্যাল সমাধান।
নাক ডাকা থেকে নাইট শিফট—কেন বাড়ছে Sleeping in Separate Beds ট্রেন্ড
আধুনিক দম্পতিদের জীবন আগের মতো এক ছাঁচে বাঁধা নয়। কেউ রাত জেগে কাজ করেন, কেউ ভোরে ওঠেন। কেউ হালকা ঘুমান, কেউ গভীর ঘুমে ডুবে থাকেন। এই ভিন্নতার মধ্যেই বাড়ছে Sleeping in Separate Beds ট্রেন্ড।
সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই নাক ডাকা। গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিন সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দে ঘুম ভাঙলে মানুষের মধ্যে অবচেতনে বিরক্তি জমে। দিনের বেলা সেই বিরক্তি ঝগড়া বা ঠান্ডা আচরণে প্রকাশ পায়। এছাড়াও আছে—
- ভিন্ন ঘুমের অভ্যাস
- ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করা
- মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার
- শিশুর সঙ্গে ঘুমানো নিয়ে মতভেদ
এই সব সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে অনেকেই আলাদা ঘুমের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, এতে সম্পর্ক ভাঙছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও শান্ত হচ্ছে।
ঘুম ভালো হলে মেজাজ ভালো, আর মেজাজ ভালো হলে সম্পর্কও
মনোবিদদের মতে, খারাপ ঘুম মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ আপনি সহজেই রেগে যান, ছোট বিষয়েও বিরক্ত হন। দম্পতি সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি। একে অপরের প্রতি সহানুভূতি কমে যায়।
এখানেই স্লিপ ডিভোর্স কাজ করে। আলাদা বিছানায় ঘুমিয়ে যদি দু’জনই ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম পান, তাহলে সকালে উঠেই শরীর ও মন দুটোই ফ্রেশ থাকে। তখন সম্পর্কের ছোটখাটো সমস্যাগুলো আর অত বড় মনে হয় না।
অনেক দম্পতি জানিয়েছেন, আলাদা ঘুমানোর পর তারা দিনের বেলা একে অপরের সঙ্গে বেশি হাসিখুশি থাকেন। ঝগড়া কমে, কথা বলার ধৈর্য বাড়ে। অর্থাৎ রাতের আলাদা থাকা দিনের বেলার সম্পর্ককে আরও শক্ত করে।
আবেগের দূরত্ব কি সত্যিই বাড়ে? সাম্প্রতিক গবেষনা কী বলছে?
এই ট্রেন্ড নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয়—“আলাদা ঘুম মানেই কি ভালোবাসা কমে যাওয়া?” বাস্তবে কিন্তু চিত্রটা এতটা সরল নয়। আবেগের দূরত্ব তৈরি হয় যোগাযোগের অভাবে, ঘুমের ব্যবস্থার কারণে নয়।
যেসব দম্পতি সফলভাবে স্লিপ ডিভোর্স করছেন, তারা একটা বিষয় খুব পরিষ্কার রাখেন—এটা শাস্তি নয়, সমাধান। তারা রাতে আলাদা ঘুমালেও, ঘুমানোর আগে কথা বলেন, সকালে একসঙ্গে সময় কাটান, উইকেন্ডে একসঙ্গে ঘুমান।
অনেকে আবার ‘পার্ট-টাইম স্লিপ ডিভোর্স’ করেন—মানে সপ্তাহের কাজের দিনে আলাদা, ছুটির দিনে একসঙ্গে। এতে আবেগও বজায় থাকে, আবার ঘুমের সমস্যাও কমে।
কখন স্লিপ ডিভোর্স উপকারী, আর কখন নয়
সব সম্পর্কের জন্য স্লিপ ডিভোর্স উপযুক্ত নয়—এটা মানতেই হবে। যদি সম্পর্কের মধ্যে আগে থেকেই গভীর সমস্যা, যোগাযোগের অভাব বা অবিশ্বাস থাকে, তাহলে আলাদা ঘুম সেই দূরত্ব বাড়াতে পারে।
কিন্তু যদি সমস্যাটা মূলত ঘুমকে ঘিরে হয়, তাহলে এটি হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলেন—
- দু’জনের সম্মতি থাকতে হবে
- সিদ্ধান্তটা খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে নিতে হবে
- নিয়মিত ইমোশনাল কানেকশন বজায় রাখতে হবে
এই শর্তগুলো মানা হলে স্লিপ ডিভোর্স সম্পর্ক নষ্ট করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তা বাঁচাতেই সাহায্য করে।
সম্পর্ক বাঁচিয়ে কীভাবে স্লিপ ডিভোর্স করবেন
স্লিপ ডিভোর্স মানেই দেয়াল তুলে নেওয়া নয়। বরং কিছু ছোট নিয়ম মানলে এটি আরও কার্যকর হয়।
প্রথমত, ঘুমানোর আগে একসঙ্গে কিছু সময় কাটান—কথা বলা, বই পড়া বা হালকা গল্প। দ্বিতীয়ত, সকালে একসঙ্গে দিন শুরু করার চেষ্টা করুন। তৃতীয়ত, বিশেষ দিন বা ছুটির দিনে একসঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাস রাখুন।
সবচেয়ে জরুরি—এটাকে গোপন বা লজ্জার বিষয় ভাববেন না। এটি আধুনিক সম্পর্কের এক বাস্তব সমাধান, যেখানে ভালো ঘুম মানেই ভালো জীবন ও ভালো সম্পর্ক।
#SleepDivorce #SleepingInSeparateBeds #RelationshipHealth #GoodSleep #ModernMarriage #healthtips, #mentalhealth
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

