Smart Fan Regulator: কোচির পাঁচ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের উদ্ভাবন, যা মাঝরাতে পাখা কমাতে ওঠার ঝামেলা থেকে দেবে চিরমুক্তি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাতের মাঝখানে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়? ঠান্ডা লাগছে বলে পাখার গতি কমাতে বা বন্ধ করতে বিছানা ছাড়তে হয়? যদি এমন একটি পাখা নিয়ন্ত্রক থাকে, যা আপনার পছন্দের তাপমাত্রা বুঝে নিজে থেকেই গতি কমাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে—তাহলে কেমন হয়? কেরালার কোচির পাঁচ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র সেই স্বপ্নকেই বাস্তব রূপ দিয়েছেন। মাত্র ২৫০ টাকায় তৈরি তাঁদের এই স্মার্ট পাখা নিয়ন্ত্রক ঘরের তাপমাত্রা বুঝে নিজে নিজে গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ঘুম আর ব্যাহত হয় না।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ মাঝরাতে পাখার গতি কমাতে জেগে ওঠেন। ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩০ শতাংশ, আর ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে তা প্রায় ৫০ শতাংশ। এই বাস্তব সমস্যার সমাধান করতেই কোচির সরকারি মডেল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থী তাঁদের চূড়ান্ত সেমিস্টার প্রকল্পে তৈরি করেন এই অভিনব পাখা নিয়ন্ত্রক। তাঁদের কাজকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে তুলে ধরেছে ‘দ্য বেটার ইন্ডিয়া’, যা ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী খবরের জন্য সুপরিচিত।
এই প্রতিবেদনে জানুন—কীভাবে কাজ করে এই যন্ত্র, কেন এটি সাধারণ পাখা নিয়ন্ত্রকের থেকে আলাদা, আর কীভাবে এটি বাজারে এলে বদলে যেতে পারে আমাদের প্রতিদিনের ঘুমের অভ্যাস।
এই উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ ছাত্রের নাম হল—কেভিন জেকব, আকাশ রাজু, সাফিন নাজির, লক্ষ্মী শ্রীকুমার, বন্দনা মেনন। এঁরা সকলেই কোচির সরকারি মডেল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এই আবিষ্কারের সূত্রপাত একেবারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে। প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা কেভিন জেকব জানান, ভোর ৫টার দিকে তাঁর ঘুম ভেঙে যেত, কারণ তখন পাখার গতি বেশি থাকায় ঠান্ডা লাগত। এই সমস্যা যে কেবল তাঁর একার নয়, তা বুঝতে তিনি নিজের পাড়া ও কলেজে একটি সমীক্ষা চালান। বহু মানুষ স্বীকার করেন, মাঝরাতে পাখা কমাতে বা বন্ধ করতে উঠতে হয়। অনেকেই ঠান্ডা লাগলেও ঘুমের ঘোরে পাখা বন্ধ করেন না, ফলে সকালে গলা ব্যথা, সর্দি বা পেশীতে টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অস্বস্তিকর সমস্যাই তাঁদের ভাবতে বাধ্য করে—যদি এমন কোনও ব্যবস্থা থাকে, যা মানুষের শরীরের আরামদায়ক তাপমাত্রা ধরে রেখে পাখার গতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তবে ঘুম আর বিঘ্নিত হবে না।
সাধারণ পাখা নিয়ন্ত্রকে পাঁচটি নির্দিষ্ট গতি থাকে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের আরামদায়ক তাপমাত্রা আলাদা। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই ছাত্রদের তৈরি যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ‘পালস প্রস্থ নিয়ন্ত্রণ’ পদ্ধতি। যন্ত্রটির সঙ্গে রয়েছে একটি ছোট প্রদর্শন পর্দা, যেখানে ঘরের বর্তমান তাপমাত্রা দেখা যায়। ব্যবহারকারী নিজের আরামদায়ক তাপমাত্রা নির্ধারণ করে সেট করতে পারেন। ধরুন, রাত ১০টায় ঘরের তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি। আপনি যদি ২৬ ডিগ্রিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে সেটিই নির্ধারণ করবেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে যন্ত্রটি তা শনাক্ত করবে। তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির কাছাকাছি এলে পাখার গতি ধীরে ধীরে কমবে। আর নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছালে পাখা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর মাঝরাতে উঠে পাখা কমানোর প্রয়োজন হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
এই আবিষ্কারের আরেকটি বড় দিক হল এর কম খরচ। উৎপাদন খরচ মাত্র ২৫০ টাকা। আবরণসহ মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩৫০ টাকা। যেখানে বাজারে থাকা দূরনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পাখা নিয়ন্ত্রকের দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে, সেখানে এই যন্ত্র সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে। ছাত্রদের দাবি, তাঁরা প্রায় ছয় মাস ধরে এই প্রকল্পে কাজ করেছেন। বৈদ্যুতিক শক খাওয়া থেকে শুরু করে রাতভর পরিশ্রম—সবই ছিল এই যাত্রার অংশ। তাঁদের পথপ্রদর্শক ছিলেন সহকারী অধ্যাপক অরুণ প্রসাদ ও বিভাগের প্রধান বিন্দু ভি।
উদ্ভাবনী পণ্য হিসেবে তাঁরা শীঘ্রই পেটেন্টের জন্য আবেদন করবেন। পাশাপাশি বর্ষা আসার আগেই বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাখা নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগেই এটি বাজারে আনবেন তাঁরা। আজকের দিনে যখন ‘স্মার্ট’ প্রযুক্তি ধীরে ধীরে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, তখন এমন একটি কম খরচের উদ্ভাবন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা দ্রুত ঘটে।
ঘুমের মান উন্নত হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও নিশ্চিত হয়। তাই এই ছোট্ট যন্ত্রটি কেবল একটি পাখা নিয়ন্ত্রক নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন ও আরামদায়ক ঘুমের সঙ্গী হতে পারে। কোচির পাঁচ ছাত্রের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সৃজনশীল চিন্তা আর সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে, বড় পরিবর্তন আনতে বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

