South 24 Parganas Zilla Parishad Fire Alipore: আলিপুরের সরকারি দপ্তরে ভয়াবহ আগুন। বহু নথি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। শর্ট সার্কিট নাকি বড় কোনও চক্রান্ত? পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আলিপুর কোর্ট চত্বর সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের আটতলা প্রশাসনিক ভবনে বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি অফিসে এমন বিধ্বংসী আগুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন—এটি কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও বড় চক্রান্ত? বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি, প্রশাসনিক ফাইল এবং দপ্তরীয় তথ্য সংরক্ষিত ছিল এই ভবনে। ফলে আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
প্রাথমিকভাবে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি এসির শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিতে রাজি নয় প্রশাসন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো দমকল ইঞ্জিনের জলের চাপ পর্যাপ্ত ছিল না। সেই কারণেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কিছু? তদন্তের কেন্দ্রে আগুনের উৎস
প্রাথমিক তদন্তে এসির শর্ট সার্কিটকে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হলেও, সরকারি দপ্তরে এমন বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। ভবনের ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি, আর্থিক রেকর্ড এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
দমকলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্তের প্রয়োজন হবে। কারণ আগুন ছড়িয়ে পড়ার গতি এবং ভবনের একাধিক অংশে তার প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছাড়াও অন্য কোনও কারণ ছিল কি না।
প্রথম দমকল ইঞ্জিনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথম যে দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল, তার জলের ফোর্স যথেষ্ট ছিল না। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুনকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ, কিছু সময় কার্যত দমকলকর্মীদের খালি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে। যদিও দমকলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে একের পর এক ইঞ্জিন পাঠানো হয় এবং বর্তমানে ঘটনাস্থলে প্রায় ১০টি দমকল ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢাকল আলিপুর, ভাঙা হল বহুতলের কাচ
আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই আটতলা ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দূর থেকেও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
আগুনের তীব্রতা কমাতে এবং ভিতরে আটকে থাকা ধোঁয়া বের করার জন্য দমকলকর্মীরা ভবনের একাধিক কাচ ভেঙে দেন। ঘটনাস্থলে আনা হয় ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং বিশেষ অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম। একইসঙ্গে সিএসসি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দ্রুত সমস্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যাতে আগুন আরও না ছড়ায়।
বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক, একাধিক ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভবনের ভিতর থেকে পরপর বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। এরপর আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভবনের পশ্চিম দিকের একাধিক ফ্লোরে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। উচ্চতা, ঘন ধোঁয়া এবং ভিতরের তাপমাত্রা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। আগুনের কারণে ভবনের একাধিক তলা কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি নষ্টের আশঙ্কা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল সরকারি নথিপত্রের ক্ষতি। কাজের দিনের মধ্যে প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগায় বহু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, প্রকল্প সংক্রান্ত নথি এবং অফিসিয়াল রেকর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বহু মূল্যবান নথি আগুনে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনা নাকি চক্রান্ত? উত্তর দেবে তদন্ত
এই মুহূর্তে প্রশাসনের দাবি, শর্ট সার্কিটই আগুনের সম্ভাব্য কারণ। কিন্তু এত বড় সরকারি দপ্তরে অগ্নিকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ঘিরে নানা প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও অন্তর্ঘাত বা পরিকল্পিত চক্রান্ত—সেই উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের এই অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সরকারি নথি সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
#South24Parganas
#AliporeFire
#KolkataFire
#BreakingNews
#WestBengalNews
#GovernmentOfficeFire
#DistrictOfficeFire
#KolkataNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

