The Devil Wears Prada and Milan’s Fashion Vibe র নস্টালজিয়ায় মেতেছে মিলান শহর। প্রাদার আইকনিক সেটে ছবি তুলতে ও ফ্যাশনের আনন্দ উপভোগ করতে কেন ভিড় করছেন মানুষ? বিস্তারিত জানুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ফ্যাশন (Fashion) এবং সিনেমার জগত যেন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আর সেই সম্পর্ক যখন বাস্তবের মাটিতে নেমে আসে, তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করে। ইতালির মিলান (Milan) শহর এমনিতে বিশ্ব ফ্যাশনের অন্যতম পীঠস্থান। তবে সম্প্রতি এই শহর এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় (Nostalgia) ভাসছে। বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস প্রাদা (Prada) এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাদা’-র (The Devil Wears Prada) একটি পপ-আপ ইনস্টলেশন ঘিরে মানুষের উন্মাদনা এখন চোখে পড়ার মতো।
মিলানের বিখ্যাত লা রিনাসেন্তে (La Rinascente) ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ পপ-আপ। সেখানে রাখা হয়েছে সিনেমার অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র মিরান্ডা প্রিস্টলির (Miranda Priestly) আইকনিক ডেস্ক। আর তার ঠিক পেছনেই রয়েছে কাল্পনিক ‘রানওয়ে’ (Runway) ম্যাগাজিনের একটি বড় মক-আপ কভার। এই সেটটিকে ঘিরে এখন ফ্যাশনপ্রেমী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। সবাই চাইছেন মিরান্ডার ডেস্কে বসে একটি ছবি বা সেলফি (Selfie) তুলতে।
ফ্যাশনের আনন্দে মেতে ওঠার ইচ্ছা
এই উন্মাদনা শুধু একটি সিনেমা বা একটি ব্র্যান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর পেছনে রয়েছে মানুষের মানসিকতার এক গভীর দিক। লা রিনাসেন্তে স্টোরের সিইও (CEO) মারিয়েলা এলা এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এই পপ-আপ প্রমাণ করে যে মানুষ এখন জীবনে কিছুটা ‘হালকা অনুভব’ বা আনন্দ খুঁজছেন। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে মুক্তি পেতেই এই ধরনের ফ্যাশন ইভেন্টের (Fashion Event) প্রতি মানুষের এত আগ্রহ।
মারিয়েলা আরও জানিয়েছেন, এটি কেবল কেনাকাটা করার বিষয় নয়। এটি হলো আবারও একটি আড়ম্বরপূর্ণ বা স্টাইলিশ (Stylish) জীবনযাপনের ইচ্ছা। মানুষ এই ইনস্টলেশনে এসে শুধু ছবিই তুলছেন না, বরং সীমিত সংস্করণের (Limited Edition) টি-শার্টও কিনছেন, যেখানে লেখা রয়েছে সিনেমার বিখ্যাত সব সংলাপ। যেমন- “আমার কফি এখনও আসেনি কেন?” (Is there some reason my coffee isn’t here?)। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করছে।
প্রাদার উত্তরাধিকার এবং মিলানের সংযোগ
মজার বিষয় হলো, সিনেমাটি সরাসরি প্রাদা ফ্যাশন হাউসকে নিয়ে তৈরি না হলেও, এই ব্র্যান্ডের নাম সিনেমার শিরোনামে থাকায় এটি প্রাদার জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনেমাটি প্রাদাকে এমন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করেছে, যা শুধু পোশাক নয়, বরং একটি স্বপ্নের প্রতীক। ফ্যাশন সাংবাদিক এবং প্রাদাকে নিয়ে বই লেখা লেখিকা আন্নারিতা ব্রিগান্তি মনে করেন, এই সিনেমা এবং প্রাদা ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নারিতার কথায়, প্রাদা এমন একটি ফ্যাশনকে তুলে ধরে যা আপনাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। এটি এমন এক ফ্যাশন যা আপনাকে ভালো অনুভব করায় এবং আপনার মধ্যে এক অদ্ভুত আকর্ষণ (Allure) তৈরি করে। সত্যি বলতে, মিউচ্চিয়া প্রাদার (Miuccia Prada) হাত ধরে এই ব্র্যান্ডটি এক অভাবনীয় রূপান্তর দেখেছে। মিলানের গ্যালেরিয়াতে তাঁর ঠাকুরদার শুরু করা একটি ছোট দোকান আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্যাশন সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
সিনেমা এবং বাস্তবের অদ্ভুত মেলবন্ধন
সিনেমাটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্প্রতি বিখ্যাত ‘ভোগ’ (Vogue) ম্যাগাজিনের কভারে মেরিল স্ট্রিপ (Meryl Streep) এবং আন্না উইন্টুর (Anna Wintour) দুজনেই প্রাদার পোশাক পরেছিলেন। এটি ফ্যাশন জগতের জন্য একটি বিরাট মুহূর্ত ছিল। তবে একটি অবাক করা তথ্য হলো, গত বছর মিলান ফ্যাশন উইকের (Milan Fashion Week) সময় যখন এই সিনেমার কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল, তখন মেরিল স্ট্রিপ এবং স্ট্যানলি টুকি প্রাদার নয়, বরং দোলচে অ্যান্ড গাব্বানা-র (Dolce & Gabbana) একটি রানওয়ে শো-কে প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
তবুও মানুষের মনে প্রাদার যে ইমেজ তৈরি হয়েছে, তা এই পপ-আপ ইনস্টলেশনের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়। ভ্যালেন্টিনা কাত্তিভেল্লি নামের এক দর্শনার্থী, পেশায় যিনি একজন অধ্যাপক, তিনি জানিয়েছেন যে তিনি মিরান্ডা প্রিস্টলিকে নকল করার চেষ্টা করছেন না। কিন্তু তিনি দৈনন্দিন জীবনে মিরান্ডার পেশাদার স্টাইল (Professional Style) এবং ফ্যাশনের প্রতি তাঁর রুচিকে সম্মান করেন।
দৈনন্দিন জীবনে ফ্যাশনের ইতিবাচক প্রভাব
মিলানের রাস্তায় হাঁটলেই বোঝা যায় ফ্যাশন এখানকার মানুষের শিরায় শিরায় বইছে। সেখানে এই ধরনের একটি পপ-আপ শুধু পর্যটকদেরই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রবলভাবে আকর্ষণ করছে। সিনেমাটিতে ফ্যাশন দুনিয়ার যে কঠিন এবং নির্মম দিকটি দেখানো হয়েছিল, তা ছাপিয়ে এখন মানুষের কাছে এই সিনেমার নস্টালজিয়া অনেক বেশি আনন্দের। মিরান্ডা প্রিস্টলির সেই ঠান্ডা অথচ আভিজাত্যে মোড়া চাহনি, কিংবা তাঁর নিখুঁত পোশাক—সবকিছুই যেন আজ এক আধুনিক রূপকথার অংশ।
মিউচ্চিয়া প্রাদা যখন এই ব্র্যান্ডের দায়িত্ব নেন, তখন তিনি এটিকে শুধুমাত্র একটি চামড়ার সামগ্রী তৈরির কোম্পানি থেকে একটি ট্রেন্ডসেটিং (Trendsetting) ফ্যাশন হাউসে পরিণত করেছিলেন। তাঁর তৈরি করা ‘আগলি চিক’ (Ugly Chic) বা অদ্ভুত অথচ আকর্ষণীয় ফ্যাশন নান্দনিকতা সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছিল। প্রাদার এই সাফল্য শুধু ব্যবসার নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবেরও প্রতীক।
ফ্যাশন শুধু পোশাক নয়, এটি মানুষের মানসিক অবস্থা, সংস্কৃতি এবং স্বপ্নের প্রতিফলন। মিলানের এই প্রাদা উন্মাদনা প্রমাণ করে যে কঠিন সময়েও মানুষ সুন্দর কিছু আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, আনন্দ খুঁজে নিতে চায়। এই ধরনের উদ্যোগগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবনকে একটু স্টাইলিশভাবে যাপন করার মধ্যে কোনো ক্ষতি নেই, বরং তা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) জন্য ভালো।
#newsoffbeat #offbeatstories #pradafashion #milanfashionweek #thedevilwearsprada #fashiontrends #lifestyle #cinemanews #milanitaly #fashionlover #dailyinspiration.
সাম্প্রতিক পোস্ট
- “ভোট সে তো যুদ্ধ নয়…”— বুথে বুথে এ কোন নতুন উৎসব? যে মানবিক উদ্যোগে ইতিহাস গড়ল বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন!
- বাংলার ভোটে আন্তর্জাতিক চমক! শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের বুথে বিদেশি প্রতিনিধিরা, নির্বাচন পরিচালনা দেখে কী বার্তা দিলেন বিশ্বের দরবারে?
- প্রথম দফার ভোটে কী ফল আসতে চলেছে? উল্টে যেতে পারে সমীকরণ, বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত বড় চমকের!
- ভুলে ভরা বক্তব্যে নেতারা ট্রোলের টার্গেট! আগামী প্রজন্মের চোখে নেতারা কি তবে হাসির খোরাক? ভুল বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন!
- নতুন ভোটারদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে: জানুন, প্রথমবারের বিশেষ পদ্ধতিতে কীভাবে দিচ্ছেন ভোটাররা ভোট

