AI Impact Summit 2026: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মানবকেন্দ্রিক ‘মানব দর্শন’, ফ্রান্সের নিয়ম গঠনের ডাক এবং বিল গেটসের অনুপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সম্মেলনে প্রযুক্তি ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ সামনে এল।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, যেখানে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতগতিতে স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, ব্যবসা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন একটি সম্মেলন আয়োজনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে চাকরির ভবিষ্যৎ: হারিয়ে যাবে কি কাজ
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, তথ্য সুরক্ষা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, এবং শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার ধরন বদলে যাবে, ফলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। উদ্যোক্তারা বলেন, গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি না করলে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ব্যাহত হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তব প্রয়োগের দিকে আরও জোর দিতে হবে।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক এক বৃহৎ সম্মেলন ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে একটি রোবোটিক কুকুর প্রদর্শন করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অরিয়ন’। একটি ভাইরাল ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিনিধি দাবি করেন, এই যন্ত্রটি তাদের উৎকর্ষ কেন্দ্রেই নির্মিত। সেই বক্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তোলে এবং পরবর্তীতে রূপ নেয় জাতীয় বিতর্কে। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় প্রযুক্তিগত গর্বের প্রসঙ্গে বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। এমনকি বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।অভিযোগ ওঠে, বিদেশি প্রযুক্তিকে নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদর্শনী কক্ষ খালি করার নির্দেশ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী মানব দর্শনে কি বললেন?
চতুর্থ দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলন ২০২৬—নয়াদিল্লির এই মঞ্চে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যতের নকশা আঁকা হচ্ছে, ঠিক তখনই বিশ্বরাজনীতি, কর্পোরেট শক্তি ও নীতিনির্ধারণ—সবকিছু এসে মিলেছে এক সড়কে। একদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তুলে ধরলেন মানবকেন্দ্রিক “মানব দর্শন”, অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বিশ্বমঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ম গঠনে মিত্রদেশগুলির ঐক্যের বার্তা দিলেন। এদিকে প্রযুক্তি জগতের বড় নাম বিল গেটস-এর সম্মেলনে অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তি নয়—এটি অর্থনীতি, নীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়ার শক্তি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সম্মেলন কী লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে? ‘মানব দর্শন’-এর ভিতরেই বা কী বার্তা লুকিয়ে আছে? চলুন বিশদে জানা যাক।
সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণা করা “মানব দর্শন”। তিনি স্পষ্ট করে দেন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে মানুষকেন্দ্রিক, যন্ত্রকেন্দ্রিক নয়।
- ম – নৈতিক ও নীতিনিষ্ঠ ব্যবস্থা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত হবে।
- আ – জবাবদিহিমূলক শাসন: স্বচ্ছ নীতি ও শক্তিশালী নজরদারি থাকবে।
- ন – জাতীয় সার্বভৌমত্ব: যার তথ্য, তার অধিকার—তথ্যের মালিকানা রক্ষা করতে হবে।
- আ – সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন একচেটিয়া না হয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়।
- ব – বৈধ ও গ্রহণযোগ্য: ব্যবহার হবে আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে প্রাচীন মন্ত্র—“সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়”। অর্থাৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে সবার কল্যাণের জন্য। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করতে ভারত এই মডেল সামনে আনছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কয়েকজন ধনকুবেরের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিয়ম তৈরি করতে হবে। এই বক্তব্যের সুর মেলান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর সতর্কবার্তা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি কেবল ধনী দেশ বা কর্পোরেট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে বৈষম্য আরও বাড়বে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে কর্পোরেট কর্তাদের বক্তব্য
মুকেশ আম্বানি ঘোষণা করেছেন—রিলায়েন্স ও জিও আগামী সাত বছরে দশ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তাঁর বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রাচুর্যের এক নতুন যুগ আনতে পারে। যেমন মোবাইল তথ্যের দাম কমানো হয়েছিল, তেমনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও সস্তা ও সহজলভ্য করা হবে। অন্যদিকে সুনীল ভারতী মিত্তাল বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গভীর গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লব আনবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রমে এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলছে।
সামিটে প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স নিয়ে ভারত-চীন প্রতিযোগিতা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণও শোনা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলন ২০২৬-এ ভারতের বার্তা স্পষ্ট—এই প্রযুক্তি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবকেন্দ্রিক। “মানব দর্শন” আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি নৈতিক কাঠামোর প্রস্তাব রাখল। ফ্রান্সের নিয়ম গঠনের ডাক, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা এবং কর্পোরেট বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দশকের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে।
#AIImpactSummit2026, #ArtificialIntelligence #AIGovernance #NarendraModi #AI #PMMODIJI #Geopolitics, #DigitalIndia
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

