প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা আদৌ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙনরেখার উপর অবস্থানের কারণে শহর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, তবে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা। শহর কলকাতায় জোড় ভূমিকম্প। একাধিক জায়গায় সাধারণ মানুষ জানাচ্ছে যে, বিগত কিছু বছরের মধ্যে এত তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। দুপুর ১টা বেজে ২২ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে কর্মরত অবস্থায় সাধারণ কর্মচারীরা নীচে নেমে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
যেখানে শেষ মুহূর্তের এস আই আর তালিকা প্রকাশ করবার প্রস্তুতি চলছে সেই নির্বাচন কমিশনের অফিসেও প্রত্যেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নিচে নেমে আসেন। এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আতঙ্ক দেখা গিয়েছে অফিস পাড়াতেও। এত দীর্ঘক্ষণ কম্পন এই প্রথমবার অনুভূত হলো। ভূমিকম্পের উৎস স্থল বাংলাদেশ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.৫।

মার্কিন ভূতত্ত্ব সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলের মাত্রা ৫.৩। শুধুমাত্র শহর কলকাতাতে, নয় কলকাতার পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্ডার সংলগ্ন এলাকা টাকিতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। মেদিনীপুর শহরেও কম্পনের ফলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাওড়া হুগলিতে একই পরিস্থিতি। এই বছরেই ৩রা ফেব্রুয়ারিতেও ভূমিকম্প হয় কলকাতায়। সেবারে উৎস ছিল মায়ানমার।
বাংলাদেশের খুলনা ভূমিকম্পের উৎসস্থল। কলকাতায় অধিকাংশ মানুষ ভূমিকম্পে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। পথ চলতি মানুষ কেউ কেউ কম্পন অনুভব করেছেন। কলকাতায় সেভাবে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও মধ্য কলকাতার একটি বহুতল বাড়ি হেলে পড়েছে।
কলকাতায় ভূমিকম্পের কারণ
মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডে সদ্য যে ভূমিকম্প হয়েছে তার কারণ ছিল ভূস্তরে সাগাইন ফল্ট। অর্থাৎ একটা সুদীর্ঘ ফাটল বা চ্যুতি রেখা ভূমিকম্পের কারণ। কলকাতায় ভূমিকম্পের কারণ মহাদেশীয় পাতের ভাঙন। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্ডিয়ান প্লেট, কুমেরু পাত এবং আন্টার্কটিক প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট একসাথে জুড়ে ছিল। পরে ভূত্বকের ভাঙনের ফলে তারা আলাদা হয়ে যায়। যে রেখা বরাবর এই বিচ্ছেদ ঘটেছিল, বর্তমান ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সেই অঞ্চলটিই ‘ইওসিন হিঞ্জ’ (Eocene Hinge) নামে পরিচিত। বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান অ্যান্টার্কটিকার পূর্বাঞ্চলের ভূস্তরের সঙ্গে ভারতের পূর্ব উপকূলের ভূস্তরের গঠনগত মিল রয়েছে। দাক্ষিণাত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে ওড়িশা পর্যন্ত এই মিল স্পষ্ট। আরও একদল ভূতাত্ত্বিকের মতে, ওড়িশার উত্তরে উপকূলরেখা— অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও মায়ানমার অঞ্চলের ভূস্তরের সঙ্গে অস্ট্রেলীয় পাতেরও গঠনগত সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ, আজকের ভারতীয়, অস্ট্রেলীয় এবং কুমেরু পাত একসময় একই অতিমহাদেশীয় পাতে যুক্ত ছিল এবং যে ফাটলরেখা বরাবর তারা বিচ্ছিন্ন হয়, সেটিই আজকের ইওসিন হিঞ্জ অঞ্চল। এই ইওসিন হিঞ্জ বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর উঠে এসে কলকাতার নীচ দিয়ে রাজারহাট ও রানাঘাট হয়ে বাংলাদেশের দিকে বাঁক নিয়েছে। পরে তা আরও উত্তরে ঘুরে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করে এবং শিলং পাহাড়ের দক্ষিণে গিয়ে শেষ হয়েছে। শিলং পাহাড়ের দক্ষিণে অবস্থিত ‘ডাওকি ফল্ট’ (Dauki Fault) নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক ভূস্তর ফাটলের সঙ্গে এই ইওসিন হিঞ্জ মিলিত হয়েছে।
কলকাতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, কলকাতা ঠিক এই ইওসিন হিঞ্জের উপরেই অবস্থিত— অর্থাৎ প্রাচীন ভাঙনরেখার উপরেই শহরটির অবস্থান। ইওসিন হিঞ্জের নীচে ভূস্তরে আরও কোনও সক্রিয় বা সুপ্ত ফাটল রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও বর্তমানে সেখানে সক্রিয় ফাটলের প্রমাণ মেলেনি, তবু গবেষকেরা একে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলতেও নারাজ। কলকাতার জন্য ইওসিন হিঞ্জ এবং কয়েকশো কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ৮৫ ডিগ্রি ইস্ট রিজ— উভয় অঞ্চলই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক। এই অঞ্চলগুলি থেকে উৎপন্ন ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

