West Bengal Delimitation: অসমের পর কি বাংলাতেও বদলাবে রাজনৈতিক মানচিত্র? বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে ফের জোরালো ডিলিমিটেশন বিতর্ক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী রাজ্য অসম-সহ একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন কি এবার পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যেতে চলেছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে ঠিক এই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ, বিধানসভায় নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ডিলিমিটেশন হলে যে ভবিষ্যতে রাজ্যে বিধানসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আর সেই কারণেই নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে একাধিক সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে বর্তমান আসন সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, দেশজুড়ে ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের ভাবনা ও সম্ভাব্য উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নানা মহলে বিতর্ক এবং উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষত, সম্প্রতি ২০২৯ সালের পর থেকে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং লোকসভা আসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও ডিলিমিটেশনের প্রশ্নটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। অতীতে অসমে ডিলিমিটেশন কার্যকর হওয়ার পর বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল যে এতে সংখ্যালঘু ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে গিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টই বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ডিলিমিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, দীর্ঘ সময় বিরোধী কণ্ঠকে বিধানসভায় উপেক্ষা করা কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়। নবনির্বাচিত অধ্যক্ষের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, ভবিষ্যতে বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই—অসমের পর কি বাংলাতেও শুরু হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অধ্যায়? ডিলিমিটেশন নিয়ে আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের অবস্থান কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

