ঠাকুমার আবিরের নিঃশব্দ শিহরণ আর দোলের কোলাহলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে রিমির মনে প্রশ্ন—ভালোবাসা কি বদলেছে, নাকি আমরা হারিয়ে ফেলেছি তার আসল গভীরতা? লিখেছেন মৌ চৌধুরী
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বসন্তকাল মানেই মনে যেন একটা শিহরণের ছোঁয়া, সদ্য কিশোর কিশোরীরা তো বটেই, ফাগুন মাসে আগুনরাঙা বসন্ত সব বয়সের হৃদয় দোলা দেয় । আকাশ বাতাসে রক্তে একটা অদ্ভুত নেশা ভালোলাগা, ভালোবাসা আনন্দ আর সাথে আগুন রাঙা পলাশের আলিঙ্গন পৃথিবীর বুকে বাঁধন ছাড়া প্রেমের জোয়ার ।সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে যায় মন মানসিকতা পরিস্থিতি পরিবেশ, কিন্তু বদলায় না ভালোবাসার নেশা, আগেও ছিল এখনো আছে ,ভবিষ্যতেও থাকবে।
আরও পড়ুন : একা হয়ে যাওয়া মানেই হার নয়—নতুন সূর্যোদয় আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে!
২৬ বছরের যুবতী রিমি। রিমি মানে মহুয়া র কাছে ঠাকুমার একটা মলাট বাঁধানো খাতা অনেকদিন থেকে রয়েছে । মন খারাপ হলেই সে ডাইরিটা নিয়ে বসে পড়ে, ওর যখন ১৪ বছর বয়স তখন ওর ঠাকুমা মারা যান। ঠাকুমার কাছে ছোটবেলা থেকেই অনেক গল্প শুনে এসেছে । তার মধ্যে রাধাকৃষ্ণের প্রেম ,দেবদোল ,আবির খেলা। সেই সময়কার ভালোবাসার গল্প রিমির চোখের সামনে ভাসে বর্তমানে রিমি পূর্ণ যুবতি, রিমি দু তিনটে প্রেম করা হয়ে গেছে। ঠাকুমার গল্পের সাথে সে প্রেমগুলো একটাও মেলে না । রিমি এখনকার মেয়ে হলেও ঠাকুমার গল্পের জগতে বেশি বিচরণ করে । এখনের দোল উৎসব মানে রিমির কাছে অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া ভালো লাগা নেই । ওর কাছে দোল খেলা শারীরিক সম্পর্ক কোন জায়গায় গিয়ে যুবক-যুবতীতে অবাধ মিলন কোনটাই তার পছন্দ হয় না । একবার ঠাকুর মা গল্প করেছিল,পাশের বাড়ির একটি ছেলে ঠাকুমার মাথার সিথিতে আবির দিয়ে দিয়েছিল।সেই শিহরণ শেষ বয়স পর্যন্ত ভুলতে পারেনি । সেই আবির রাঙানো মুখটা লুকিয়ে আয়নায় দেখেছিলেন ঠাকুমা ।সারা জীবন মনে রেখেছিল মুখ ফুটে কখনো বলতেও পারেননি ,ভু লতে,ও পারেনি ভালোবাসার কথা । আচ্ছা তোমার জীবনের সেই নিঃশব্দে প্রেম , অথচ দাদু ঠাম্মার যখন বিয়ে হয় তাদের মধ্যে কখনো কোন মতান্তর বা ভালোবাসার ক্ষান্তি রিমির চোখে পড়েনি । অথচ বাবা-মায়ের সাথে মতান্তরে ঝগড়াঝাটি ছোট থেকেই রিমি দেখে এসেছে বিয়ে হয়েছে বা রিমি সেই ছোট বয়স থেকে। দেখেছে। ঠাকুমার দাদু দুজনের মধ্যে কি অপূর্ব বন্ধন ছিল । দোলের দিন ঠাকুমা স্নান করে ঠাকুর পূজা সেরে প্রথমেই দাদুর পায়ে আবির দিতেন। তারপর ভোগ রান্না করতেন ঠাকুরের কাছে নিবেদন করা কিঅমৃত স্বাদ ছিল সেই ভোগের। দাদু প্রসাদ মুখে দিয়েই বলতেন ও মৃণালিনী অপূর্ব হয়েছে আজকে রান্না তোমার। ঠাকুমার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে যেত সে কথা শুনে।
রিমি ভাবে কি করে এই বন্ধন সৃষ্টি হতো কোথায় ব্রেকআপ ছিল । কোথায় এত ডিভোর্স ছিল। পারিবারিক বন্ধন কি করে এতটাই মধুর হত। আর এখন দোল মানে হইচই, আড্ডা কেমন যেন মেকি লাগে সবকিছু কত মেয়ের জীবন এই দিন নষ্ট হয়ে যায় সম্মান ধুলোয় মিশে যায়।
দাদু ঠাম্মা যখন ছিলেন সন্ধ্যার পরে গান-বাজনার আসর হত সবাই মিলে একে একে গান গাওয়া হতো। প্রচুর মিষ্টি আনা হতো, সবাই মিলে একসাথে মিষ্টি খাওয়া হতো, একটা অদ্ভুত ঘরোয়া আনন্দ অনুষ্ঠান ছিল, কোথায় হারিয়ে গেল। শেষের দিনগুলো। এখনকার অনুষ্ঠানগুলোতে কম্পিটিশন বেশি কারো প্রতি কারো আন্তরিক টান সেভাবে তৈরি হয় না ।নাচ গান হয় কিন্তু ওইটুকু। সবসময় তার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা থাকে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Live Update: মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাচ্ছে মহাপ্রলয়, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের খবর
- ‘ফেলে আসা দোলের স্মৃতি’: কেন উৎসবের দিনে আমাদের পুরনো কথা বেশি মনে পড়ে?
- আপনার রঙের আনন্দ যেন ওদের বিষাদ না হয়: দোলের দিনে পোষ্য ও রাস্তার প্রাণীদের সুরক্ষায় ৫টি জরুরি পদক্ষেপ
- এই ১০টি বাংলা গান প্লেলিস্টে রাখলেই মুহূর্তে জমবে দোলের পার্টি ! রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে হোলি হিটস এক্সক্লুসিভ
- শ্রীচৈতন্যের নবদ্বীপ থেকে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন: বাংলার দোল উৎসব বিবর্তনের এক অজানা ইতিহাস

