Falta By Election 2026: ফলতা উপনির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে জাহাঙ্গীর খানের সংগঠন শক্তির প্রদর্শন, অন্যদিকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বর্ণময় ও উত্তপ্ত। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান, যাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই রাজনৈতিক মহলে দেখা হয়। অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই পক্ষের রাজনৈতিক লড়াই এখন ফলতার মাটিতে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ফলতায় একাধিক জনসভা ও প্রচার করেছেন, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক দিক থেকেও সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার বার্তা দিয়েছেন। ভোটের দিন মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন।
এর আগের ভোটে অভিযোগ উঠেছিল, ফলতার একাধিক এলাকায় সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছু বুথে অশান্তি এবং ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। তবে এবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফলতার মানুষ নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। প্রশাসন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এই আবহেই সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জাহাঙ্গীর খানের একটি ভিডিও। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “পুষ্পা কি সত্যিই ঝুঁকে গেল?” সেই প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীর খান বলেন, “না, কোনো বাঘ যদি দু’পা পিছিয়ে যায়, তাতে সে বাঘই থাকে। সে অন্য কিছু হয়ে যায় না।”
তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সমাজে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সমালোচনাও হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, এত বড় ব্যক্তিত্বদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই তাঁকে নিয়েও কেউ সমালোচনা করলে সেটাই স্বাভাবিক।
জাহাঙ্গীর খানের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। সেই কারণেই মানুষের একাংশ তাঁর পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদেরও নতুন করে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের যে সমস্ত কর্মীরা দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাঁদের আবার দলে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে এনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, “পুষ্পা কখনও ঝুঁকে যায় না” — এই বার্তার মধ্য দিয়েই জাহাঙ্গীর খান কার্যত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। এখন দেখার, ফলতার রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান এলাকায় সক্রিয়ভাবে দলীয় সংগঠনকে ফের মজবুত করার কাজে নেমেছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক দিক থেকে কড়া বার্তা দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সম্প্রতি জাহাঙ্গীর খানকে একাধিক দলীয় কার্যালয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। সেখানে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন থেকে দূরে সরে যাওয়া কর্মীদের ফের সক্রিয়ভাবে দলে ফেরানোর চেষ্টাও করছেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
তবে এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। স্থানীয় বহু মানুষের অভিযোগ, ২০১১ সালের পর থেকে তাঁরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এমনকি থানায় অভিযোগ জানালেও সেই অভিযোগ গ্রহণ করা হতো না বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবারের উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। কাউকে ভয় দেখিয়ে বা বাধা দিয়ে ভোট আটকানো হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভয় না পেয়ে মানুষ ভোট দিন, প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চায় এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর আরও একটি মন্তব্য। তিনি নাকি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “জাহাঙ্গীরকে আমার উপর ছেড়ে দিন, ওর দায়িত্ব আমি নিলাম।” একইসঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এবারে কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। বাইক বাহিনী, ভয় দেখানো কিংবা বাড়িতে বাড়িতে সাদা থান ফেলে আতঙ্ক তৈরির মতো অভিযোগের বিরুদ্ধেও প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগেও জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি ভোটে কারচুপির অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ ছিল, ইভিএমে সেলোটেপ বা সুগন্ধি জাতীয় কিছু লাগিয়ে দেওয়া হতো, যাতে ভোটাররা ভোট দিয়ে বেরোনোর পরে আঙুলে বিশেষ গন্ধ টের পান। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কম হয়নি।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও জাহাঙ্গীর খানকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ অজয় পাল শর্মার কড়া হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চার মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দীর্ঘ কয়েকদিন জাহাঙ্গীর খানকে এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলেও দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। পরে প্রায় দশদিন পর তাঁকে আবার পার্টি অফিস খুলে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়।
এবারের ফলতা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনও বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ২৪ মে ঘোষণা করা হবে ফলাফল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ২৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম থেকেই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনওরকম অশান্তি বা ভয়ভীতি ছাড়াই যাতে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন। এখন দেখার, রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ফলতার মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে ভরসা করেন।

