Green Tea Lemon: কয়েক ফোঁটা লেবু কীভাবে গ্রিন টি-র শক্তিকে বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরে উপকারের মাত্রা বহুগুণ বাড়ায়। শুধু স্বাদ নয়, স্বাস্থ্যেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে গ্রিন টি-লেবুর সহজ এই সংমিশ্রণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: জানলার ধারে বসে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গ্রিন টি হাতে নিয়ে দিনের শুরু করেন অনেকেই। অথবা বিকেলে অফিস থেকে ফিরে একটা গ্রিন টি নিয়ে অনেকেই ব্যালকনিতে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটাতে পারেন। কাপে যদি থাকে গ্রিন টি আর তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবু—তাহলে কি সত্যিই শরীর পায় বাড়তি উপকার? সাম্প্রতিক পুষ্টিবিজ্ঞান গবেষণা বলছে, শুধু গ্রিন টি খাওয়ার চেয়ে Green Tea Lemon একসঙ্গে খেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণ অনেকটাই বেড়ে যায়। অর্থাৎ একই পানীয়, কিন্তু প্রভাব দ্বিগুণ! আজকাল বাড়তি ওজন, ধীর মেটাবলিজম, ত্বকের ক্লান্ত ভাব—এই সব সমস্যায় অনেকেই ভরসা রাখছেন গ্রিন টি-র ওপর। তবে জানেন কি, লেবুর ভিটামিন সি এই গ্রিন টি-র কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিতে পারে? এই প্রতিবেদনে জানুন, কীভাবে Green Tea Lemon আপনার শরীরে কাজ করে, কেন এটি মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, আর কীভাবে সঠিক নিয়মে পান করলে মিলবে সর্বোচ্চ উপকার।
গ্রিন টি-তে রয়েছে ক্যাটেচিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যাটেচিন হলো চায়ে পাওয়া এক ধরনের যৌগ, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে শক্তিশালী করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকে ক্ষতিকর মুক্ত কণার হাত থেকে রক্ষা করে এবং সংক্রমণ ও অবক্ষয় প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াও ধীর হতে পারে। এই উপাদান শরীরের কোষকে রক্ষা করে, বার্ধক্যের গতি ধীর করে এবং ফ্রি র্যাডিক্যাল ক্ষতি কমায়। কিন্তু সমস্যা হলো—শরীর সব সময় এই ক্যাটেচিন পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না।
এখানেই লেবুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি লেবুতে দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর প্রায় চৌত্রিশ শতাংশ থাকে। এই ভিটামিন শরীরের বৃদ্ধি ও টিস্যুর মেরামতে সাহায্য করে। যদিও আরও অনেক ফলে ভিটামিন সি থাকে, লেবুর বিশেষত্ব হলো এটি গ্রিন টি-র ক্যাটেচিন নামের উপাদানকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড গ্রিন টি-র অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে স্থিতিশীল রাখে। ফলে পাকস্থলীতে গিয়ে তা ভেঙে না গিয়ে রক্তে সহজে মিশতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, লেবু মেশালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
মেটাবলিজম মানে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া। অনেকের শরীরে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে ওজন বাড়ে, ক্লান্তি বাড়ে। গ্রিন টি-তে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুর রস গ্রিন টি-র ক্যাটেচিন সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর। লেবু থেকে প্রায় ত্রিশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি যোগ হয়, যার ফলে প্রায় আশি শতাংশ ক্যাটেচিন অটুট থাকে।
লেবু যোগ হলে এই প্রভাব আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। কারণ লেবু হজমশক্তি বাড়ায় এবং লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ফলে শরীর দ্রুত টক্সিন বের করে দিতে পারে। সকালে খালি পেটে Green Tea Lemon পান করলে অনেকেই হালকা অনুভব করেন—এটা কেবল মানসিক নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও যুক্তিযুক্ত। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বাড়তি শোষণ মানে ত্বকের কোষ রক্ষা পায়। ফলে ত্বকে উজ্জ্বলতা আসে, ব্রণ কমতে পারে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ ধীর হয়। লেবুর ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে—যা ত্বক টানটান রাখে। এছাড়া, Green Tea Lemon রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক। ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই এই পানীয়ের ওপর ভরসা রাখেন।
কী কী উপকার পাওয়া যায়?
লেবুর ভিটামিন সি এবং গ্রিন টি-র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসঙ্গে শরীরকে শক্তিশালী করে। জীবাণু আক্রমণ করলে শরীর সহজে তা মোকাবিলা করতে পারে। গ্রিন টি ও লেবু হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে পরিচিত। লেবুতে লিমোনিন নামের এক বিশেষ তেল থাকে, যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। গ্রিন টি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ধমনী পরিষ্কার রাখে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কম পড়ে। লেবু যকৃত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি যকৃতকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। সুস্থ যকৃত বেশি পিত্তরস উৎপাদন করে, যা হজমে সহায়ক। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুর রস মদ্যপানে ক্ষতিগ্রস্ত যকৃতের উপকার করতে পারে। গ্রিন টি-র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যকৃতের কোষের ক্ষতি কমায়। ব্রণের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। সেবাম নামের তেলজাতীয় পদার্থ ত্বককে রক্ষা করে, কিন্তু অতিরিক্ত সেবাম রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণ সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি ও লেবু সেবাম নিঃসরণ কমাতে পারে।
প্রতিদিনের সাধারণ এক কাপ চায়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে শরীরকে সুস্থ রাখার শক্তি। লেবুর ভিটামিন সি ও গ্রিন টি-র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসঙ্গে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম উন্নত করে, হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের যত্নেও সহায়ক হয়। সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নিয়মিত গ্রহণ করলে এই পানীয় দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

