Parliamentary Party Leader: ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সর্বসম্মত সমর্থনে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামীকালই শপথ নিতে চলেছেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলায়, আর সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল শনিবার শপথ গ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় শুভেন্দু অধিকারীকে।
সূত্রের খবর, বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে প্রায় দুশো ছয়জন বিধায়ক সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সমর্থন করেন। পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন দিলীপ ঘোষ। এরপর সমস্ত বিধায়কের সমর্থনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে মনোনীত হন শুভেন্দু অধিকারী।
ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। খুব অল্প বয়সেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি অঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। পরবর্তীকালে তিনি কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ধীরে ধীরে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন।
এরপর তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেও নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠন দক্ষতা এবং জনসংযোগের জন্য খুব দ্রুতই তিনি রাজ্যের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে জায়গা করে নেন।
দুহাজার ষোলো সালে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। সেই সময় তিনি পরিবহণ, সেচ এবং জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর পদ সামলান। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মাঠে নেমে কাজ করার জন্য সেই সময়ও তিনি যথেষ্ট পরিচিতি পান রাজনৈতিক মহলে।
তবে দুহাজার কুড়ি সালে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় মোড় আসে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দলবদল ঘিরে সেই সময় ব্যাপক রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছিল গোটা বাংলায়।
এরপর দুহাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে সরাসরি মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই হাইভোল্টেজ নির্বাচনী লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত নতুন ইতিহাস গড়েন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক উত্থানের সেই ধারা আরও শক্তিশালী হয় দুহাজার ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয় ছিনিয়ে নেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জয়ই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রাস্তা আরও স্পষ্ট করে দেয়।
অবশেষে প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে, আর সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলার ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছনোর এই সফর এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
আগামীকাল সকাল দশটায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হতে চলেছে এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার ইতিহাসে এত বড় আকারের শপথ অনুষ্ঠান এর আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এবং দেশের প্রায় কুড়িটিরও বেশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার দিক থেকেও নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান বাংলার রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে ভবানীপুর— একের পর এক রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। আর এবার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ গ্রহণকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিজেপিতে যোগ দিয়েই সোজা ভবানীপুরে রাঘব? মমতার গড়েই কি বড় চমকের প্রস্তুতি?
- ভোট দিতে গিয়ে ছবি তুলবেন? ভোটের বুথে এবার দেখা মিলবে বিশেষ চরিত্রের, জানুন কেন এই নতুন ব্যবস্থা
- ৬ সাংসদকে নিয়ে হঠাৎ বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! জাতীয় রাজনীতিতে এ কোন বড় পালাবদলের ইঙ্গিত?
- নস্টালজিয়ার টানে ভিড় শহরে! কেন সবাই ছুটছে আইকনিক সেটে ছবি তুলতে? জানুন বিস্তারিত
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নামী কলেজে কমছে আসন! কোন বিষয়ের দিকে ঝুঁকছে এখন ছাত্রছাত্রীরা?

