রটন্তী কালীপুজো ২০২৬-এর তারিখ, শুভ সময়, রীতিনীতি ও পৌরাণিক কাহিনি জানুন। একমাত্র কালীপুজো যা অমাবস্যায় নয়, চতুর্দশীতে হয়—জানুন এর রহস্য ও মাহাত্ম্য। এই কালীপুজোয় কী করলে আপনার জীবনে ফিরে আসবে সুখ সমৃদ্ধি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মাঘ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী—এই বিশেষ রাতে পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে পালিত হয় এক অনন্য কালীপুজো, রটন্তী কালীপুজো। অন্যান্য কালীপুজোর মতো এটি অমাবস্যা তিথিতে নয়, বরং চতুর্দশীতে হয়—এটাই একে আলাদা করে তোলে। রটন্তী নামের উৎস, পুজোর পৌরাণিক কাহিনি, এবং শুভ সময়, সব মিলিয়ে এই পুজো ঘিরে রয়েছে এক রহস্যময় আধ্যাত্মিক আকর্ষণ।
রটন্তী কালীপুজো কী? (Ratanti Kalipuja)
মাঘের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশীতে রটন্তী কালীপুজো হয়। কথিত রয়েছে , একবার শ্রীরাধা তাঁর স্বামী আয়ান ঘোষকে লুকিয়ে মাঘের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশীর রাতে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এদিকে তাঁর দুই ননদিনী জটিলা-কুটিলা বিষয়টি বুঝে তাঁদের দাদাকে সেটা জানান। এই কথা শুনে একেবারেই বিশ্বাস করেননি রাধার স্বামী। তিনি তখন দেখার জন্য বেরিয়ে দেখলেন দেবী কালীর পদতলে সেবা করছেন শ্রীরাধিকা। এই দেখে তিনি আপ্লুত হয়ে ওঠেন। এই ঘটনার দ্বারা কৃষ্ণ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কৃষ্ণ আর কালিতে কোনও ভেদ নেই। কৃষ্ণ ও কালীর যোগসূত্র স্থাপন করে দেয় এই ঘটনা। আর তারপর থেকেই এই দিনে একত্রে কৃষ্ণ ও কালীর পুজো করা হয়। এটাই একমাত্র কালীপুজো যা অমাবস্যা তিথিতে হয় না, চতুর্দশীতে হয়।
রটন্তী’ শব্দটি এসেছে ‘রটনা’ শব্দ থেকে। যার অর্থ প্রচার হওয়া। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনেই দেবীর মহিমা চতুর্দিকে রটে যায়। মা দূর্গার মুক্তকেশী মায়ের মহিমা এই এই তিথিতেই রটিত হয়ে থাকে।
রটন্তী কালীপুজোর শুভ সময়
চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে শুক্রবার রাত ১০টা ২ মিনিটে, শেষ হচ্ছে শনিবার ১৭ই জানুয়ারি রাত ১২টা ১০ মিনিটে। পঞ্জিকা মতে শুভ সময় ১৭ ই জানুয়ারি, বিকেল ৫:০৮ মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।
কেন অমাবস্যায় নয়, চতুর্দশীতে পুজো?
সাধারণত কালীপুজো হয় অমাবস্যা তিথিতে, কিন্তু রটন্তী কালীপুজো সেই নিয়ম ভেঙে চতুর্দশীতে পালিত হয়। কারণ, এই দিনই রাধা ও কৃষ্ণের মিলনঘটিত সেই অলৌকিক ঘটনা ঘটে। চতুর্দশীর এই বিশেষ মুহূর্তে কৃষ্ণ ও কালীর ঐক্যরূপ প্রকাশ পেয়েছিল, তাই ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই রাতে পূজা করলে জীবনের সমস্ত অন্ধকার কেটে যায়।
রটন্তী কালীপুজোর দিনে কী করলে ভালো হবে? (Ratanti Kalipuja)
- রটন্তী কালীপুজোর দিন সকালে সূর্যোদয়ের আগে উঠে শুদ্ধ স্নান করে মন্ত্র জপ করুন। এই মন্ত্র উচ্চারণ করলে দেবীর আশীর্বাদ লাভ হয় এবং জীবনের নেতিবাচকতা দূর হয়।
- এই দিনে দেবীকে লাল জবা ফুল, তিলের তেল ও লাল সিঁদুর অর্পণ করলে দেবী রুষ্ট হন না। জবা ফুল দেবীর প্রিয়, আর তিলের তেলে দীপ জ্বালালে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।
- রটন্তী তিথি যেহেতু কৃষ্ণপক্ষের রাত, তাই অন্ধকার দূর করার প্রতীক হিসেবে দীপ জ্বালানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি কালো বা লাল মাটির প্রদীপে তিলের তেল ও তুলোর সলতে জ্বালিয়ে মা কালীর সামনে রাখুন। - এই দিনে কৃষ্ণ ও কালীর ঐক্যরূপ স্মরণ করলে মানসিক শান্তি ও প্রেম বৃদ্ধি পায়।
- রটন্তী কালীপুজোর দিনে দরিদ্র মানুষ, পশু-পাখিকে খাদ্য দিলে দেবী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। বিশেষত, কাক, কুকুর, গরু ও ছাগলকে খাবার দিলে তা কালীমায়ের সেবা বলে গণ্য হয়।
- গৃহে দক্ষিণমুখে প্রদীপ সাজিয়ে রাখলে অর্থ ও সৌভাগ্যের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় বলে শাস্ত্রে বলা হয়েছে।
লোকবিশ্বাস অনুসারে, রটন্তী কালীপুজোয় অংশ নিলে —
- সংসারে শান্তি ও সৌভাগ্য আসে,
- জীবনের অপদেবতা ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয়,
- এবং দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
এই পুজো ভক্তি, প্রেম ও শক্তি এক সূত্রে গাঁথা। রাধা, কৃষ্ণ ও কালীর মেলবন্ধনে নিহিত আছে চিরন্তন একতার দর্শন। রটন্তী কালী সেই ঐক্যের প্রতীক, যিনি অন্ধকারে আলো এনে দেন, মনের সংশয় দূর করেন, এবং জীবনে শক্তি জোগান।
#kalipuja #ratantikalipuja, #Mouniomavasya
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

