নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান। প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, তীব্র প্রচার এবং টানটান উত্তেজনার পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। বৈশাখের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে দলীয় বৈঠক করেন। এরপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে জানা যায়, প্রথমবারের জন্য বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার একসঙ্গে দুই জন উপমুখ্যমন্ত্রীও দেখা যেতে চলেছে। সেই দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং দিলীপ ঘোষ। বিজেপির এই নতুন মন্ত্রিসভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।
আরও পড়ুন : নতুন সরকার গঠনের পথে বিজেপি, মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন?
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমবারের জন্য বিজেপি শাসিত সরকার গঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে, আর সেই সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখতে চলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে বহুদিন ধরেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করতেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে।
এবারের দুহাজার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বিজেপির সবচেয়ে বড় মুখগুলির অন্যতম। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— এই দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কারণ সেই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরের লড়াই কার্যত গোটা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল। সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি ক্রমশ জোরালো হতে থাকে।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস আরও পুরনো। যদি রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যাবে দুহাজার একুশ সালেও তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। সেই পরাজয়ের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরে আসতে হয়েছিল।
এরও আগে দুহাজার ষোলো সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের উপর দখল এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসংযোগ— এই সমস্ত কিছু মিলিয়েই ধীরে ধীরে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছিল। আর সেই কারণেই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এখন রাজ্যের নজর আগামীকালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। নতুন সরকারের প্রথম সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশাসনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং বাংলার রাজনীতিতে এই নতুন অধ্যায় কতটা প্রভাব ফেলবে— তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর
নতুন সরকারের মুখ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপরেই থাকছে প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি দেখাশোনা করবেন—
- স্বরাষ্ট্র দপ্তর
- পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর
- ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর
- ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা থেকে প্রশাসনিক সংস্কার— সব ক্ষেত্রেই সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে নতুন সরকার। সেই কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের হাতে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন
দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ এবার উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে চলেছেন। তাঁর হাতে থাকছে পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তর।
গ্রামের রাস্তা, আবাসন, পানীয় জল, কর্মসংস্থান এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব থাকবে তাঁর উপর। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, গ্রামীণ বাংলায় সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে দিলীপ ঘোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
এই নতুন সরকারের অন্যতম বড় চমক অগ্নিমিত্রা পাল। প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে কোনও মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন তিনি।
তাঁর হাতে থাকছে—
- শিল্প দপ্তর
- বাণিজ্য দপ্তর
- তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর
- তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর
- ইলেকট্রনিক্স দপ্তর
রাজ্যে শিল্পায়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই অগ্নিমিত্রা পালকে সামনে আনা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তরুণ প্রজন্ম এবং মহিলা নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও তাঁকে তুলে ধরছে বিজেপি।

