Suvendu Adhikari Oath Ceremony-র আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোড়া পোস্ট হবু মুখ্যমন্ত্রীর। একদিকে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা, অন্যদিকে ডবল ইঞ্জিন সরকার ও সোনার বাংলার ডাক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আজ ৯ মে। বাঙালির আবেগের পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। আর কাকতালীয়ভাবে এই ঐতিহাসিক দিনটিতেই বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, পালাবদল এবং প্রবল সংঘাতের পর আজ রাজ্যে প্রথমবার ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সরকার শপথ নিতে চলেছে। অখণ্ড মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। কিন্তু এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ (Oath Ceremony) অনুষ্ঠানের ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তাঁর করা জোড়া পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে।
একদিকে তিনি যেমন বিশ্বকবির চরণে তাঁর বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, অন্যদিকে ঠিক তেমনই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ‘সিটি অফ জয়’ বা তিলোত্তমা কলকাতায় স্বাগত জানিয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়েছেন। শপথের আগে এই জোড়া বার্তার মধ্যে দিয়ে হবু মুখ্যমন্ত্রী বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগ এবং আগামীর উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট— এই দুইয়েরই নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তীতে আবেগঘন শ্রদ্ধা
আজ সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে সাজো-সাজো রব। একদিকে শপথের উন্মাদনা, অন্যদিকে কবিগুরুর জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি। এই আবহে হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছবি পোস্ট করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি লেখেন যে, বিশ্বকবি, নোবেলজয়ী এবং বিশ্ববরেণ্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে তিনি তাঁর আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তাঁর এই পোস্টে বিশ্বকবির অবিনশ্বর সৃষ্টি, মানবিক দর্শন এবং দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করা হয়, যা যুগ যুগ ধরে আমাদের পথ দেখিয়েছে।
শুভেন্দু আরও লেখেন যে, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে বিশ্বকবি চিরকাল এক ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলবেন। তিনি কবিগুরুর বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে প্রার্থনা করেন, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” (Where the mind is without fear, and the head held high)— এই মহান বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে মানবসভ্যতা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীতে এভাবেই তাঁর প্রতি বিনম্র প্রণাম জানান আগামী সরকারের কাণ্ডারী। তাঁর এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং আপামর বাঙালির মন ছুঁয়ে নেয়।
মোদীকে স্বাগত এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার হুঙ্কার
বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানানোর ঠিক পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও একটি অত্যন্ত কড়া ও দূরদর্শী পোস্ট করেন শুভেন্দু। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আজই শহরে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে তিলোত্তমা কলকাতায় স্বাগত জানিয়ে হবু মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য আজ সত্যিই এক ঐতিহাসিক ভোর। ‘সিটি অফ জয়’-এ দূরদর্শী নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে স্বাগত জানানো আমাদের কাছে এক গভীর গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত।”
এই পোস্টের ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে ছিল আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলার কড়া বার্তা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে চলেছি আমরা। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পূরণ করছি।” এরপরই বিগত সরকারের দিকে সরাসরি তোপ দেগে তিনি লেখেন যে, আজকের দিনটি দশকের পর দশক ধরে চলা অপশাসনের (Misrule) অবসান ঘটাচ্ছে। এর সঙ্গেই রাজ্যে উন্নয়ন, শান্তি এবং সমৃদ্ধির এক ‘ডবল ইঞ্জিন’ (Double Engine) যুগের সূচনা হচ্ছে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর পোস্টের শেষ লাইনটি ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ— “আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনার বাংলা’র (Sonar Bangla) যুগ শুরু হলো। স্বাগত প্রধানমন্ত্রী জি।”
জোড়া বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথের ঠিক আগে এই দুটি পোস্ট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা (Political Message)। প্রথমত, বিশ্বকবির জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, নতুন সরকার বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়কে সম্মান করতে বদ্ধপরিকর। এতদিন বিরোধী দলগুলি বিজেপির গায়ে যে ‘অবাঙালি’ বা ‘বহিরাগত’ তকমা সাঁটানোর চেষ্টা করেছিল, রবীন্দ্রনাথের প্রতি এই অকৃত্রিম শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সেই মিথকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ পঙ্ক্তিটি উল্লেখ করে তিনি হয়তো রাজ্যের সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে বাঁচার বার্তাই দিতে চেয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর সরকারের প্রশাসনিক লক্ষ্য বা ভিশন (Vision) স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ‘অপশাসনের অবসান’ এবং ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এবার থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আর সংঘাত হবে না, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের যে পাহাড় তৈরি হয়েছিল, তা সাফ করে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি নির্বাচনের আগে দিয়েছিল, আজ শপথ নেওয়ার আগে সেই প্রতিশ্রুতির কথাই রাজ্যবাসীকে আবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
শপথ গ্রহণ ঘিরে তিলোত্তমায় উন্মাদনা
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই রাজভবন বা শহরের কোনো এক বিশাল ময়দানে আয়োজিত হতে চলেছে এই মেগা ইভেন্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা সহ দেশের একাধিক হেভিওয়েট নেতা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে কলকাতায় উপস্থিত হচ্ছেন। গোটা শহর মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার কড়া চাদরে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। মেদিনীপুর থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ও সমর্থক কলকাতায় এসে ভিড় জমিয়েছেন তাঁদের প্রিয় নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে দেখার জন্য।
শপথ নেওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর এই আত্মবিশ্বাসী এবং আবেগঘন জোড়া বার্তা কর্মী-সমর্থকদের উদ্দীপনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ পনেরো বছরের শাসকদলের বিদায় এবং এক নতুন দলের উত্থান— বাংলার এই পালাবদল সত্যিই এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল। এখন দেখার, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আগামী পাঁচ বছরে কতটা বাস্তবায়িত করতে পারেন।
আপনার কী মনে হয়? শপথ নেওয়ার আগেই হবু মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া বার্তা কি সত্যিই রাজ্যে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নতুন সরকারের কাছে আপনার প্রধান প্রত্যাশা কী? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং নতুন মন্ত্রীসভার প্রতিটি লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

