TMC Corruption Arrest: একের পর এক তৃণমূল নেতা, মন্ত্রী ও আমলার নাম উঠে আসছে দুর্নীতির তদন্তে। ইডির জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি ও গ্রেফতারি ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর, আর সেই সঙ্গেই জোরদার হচ্ছে আজ আরও বড় পদক্ষেপের জল্পনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের সরকারের পালাবদল ঘটেছে। আর সেই পালাবদলের পর থেকেই যেন একের পর এক খুলতে শুরু করেছে বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা দুর্নীতির ফাইল। তদন্তকারী সংস্থার নজরে উঠে আসছে প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রভাবশালী নেতা, আমলা থেকে পুলিশ কর্তাদের নাম। কোথাও নিয়োগ দুর্নীতি, কোথাও কাটমানি, আবার কোথাও সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
গত কয়েক মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে এই দুর্নীতির তদন্ত। ইতিমধ্যেই একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কারও বাড়িতে তল্লাশি, কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা, আবার কারও ঘনিষ্ঠদের ডেকে পাঠানো— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত।
তবে কি আজও নতুন করে কারও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে? কোন কোন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, মন্ত্রী বা আমলার নাম এখন তদন্তের কেন্দ্রে? এক ঝলকে জেনে নিন সেই তালিকা এবং রাজনৈতিক মহলে কেন বাড়ছে জল্পনা।
তদন্তের নজরে একাধিক প্রভাবশালী নাম (TMC Corruption Arrest)
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু-র নাম সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত কিছু তথ্য খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা বলে সূত্রের খবর। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
শুধু সুজিত বসুই নন, একাধিক পুরনো তৃণমূল নেতা এবং জেলা স্তরের সংগঠকদের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভোটের পর পাল্টে যাওয়া প্রশাসনিক সমীকরণের মধ্যেই পুরনো নথি ও ফাইল খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যেসব অভিযোগ শুধুই বিরোধীদের মুখে শোনা যেত, এখন সেই বিষয়গুলিই তদন্তের টেবিলে চলে এসেছে। ফলে চাপ বাড়ছে শাসকদলের একাংশের ওপরও।
আমলা ও পুলিশ কর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নন, তদন্তের আওতায় আসছেন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ বিভাগের কিছু প্রভাবশালী নামও। বিশেষ করে ডিসিপি পদমর্যাদার কিছু আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মামলায়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা না থাকলে এত বড় আর্থিক অনিয়ম সম্ভব হত না। সেই কারণেই এখন পুরনো ফাইল, টেন্ডার, নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বিভিন্ন অনুমোদনের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফোন কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও এখনও পর্যন্ত অনেক তথ্যই তদন্তাধীন, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে যে আগামী দিনে আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে।
আজ কি হতে পারে বড় কোনও পদক্ষেপ? (TMC Corruption Arrest)
আজকের দিনটি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার কিছু বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে বলে খবর। কয়েকটি জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও গ্রেফতারির ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে যেকোনও সময় বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কারা গ্রেফতার? এক নজরে বড় নামগুলি
শান্তনু সিনহা বিশ্বাস — কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি, বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ)
‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-কে। সূত্রের খবর, প্রায় ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত চলাকালীন তাঁর দুই ছেলের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় ইডি তাঁর আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সুজিত বসু — রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী (দমকল দফতর)
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বারবার ইডির তলবের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে।
সূত্রের দাবি, শেষবার ইডি দফতরে হাজিরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, আর্থিক লেনদেন ও নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নাম দুর্নীতি মামলার আলোচনায় উঠে আসছিল।
রথীন ঘোষ — পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে নজরে
পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে রথীন ঘোষ-এর নামও উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থা একাধিকবার তাঁকে তলব করেছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে বড় কোনও আইনি পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে তদন্তের গতি দেখে ভবিষ্যতে ফের জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেফতারির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দিলীপ মণ্ডল — বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-এর বাড়িতেও সম্প্রতি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে তদন্ত (TMC Corruption Arrest) আরও জোরালো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
#TMCCorruption #EDRaid #WestBengalPolitics #SujitBasu #ShantanuSinhaBiswas #PoliticalNews #BreakingNews #KolkataNews #EDInvestigation
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

