UK eVisa: আজ থেকে চালু হলো যুক্তরাজ্যের নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা। ভিনিয়েট স্টিকারের দিন শেষ, এবার সবকিছুই হবে ডিজিটাল। কী কী সুবিধা, কীভাবেই বা আবেদন করবেন—সব খুঁটিনাটি জানুন এক ক্লিকেই।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার ভিআইপি রোডে অবস্থিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC)। বাইরে লম্বা লাইন। হাতে মোটা ফাইল, পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের আশায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। কারো হয়তো কয়েক সপ্তাহ ধরে পাসপোর্ট জমা পড়ে আছে, বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা আটকে। এই দৃশ্য আমাদের খুব চেনা। কিন্তু আজ থেকে, এই চেনা ছবিটাই আমূল বদলে যেতে চলেছে।
ব্রিটেনের হাতছানি যাঁদের ডাকে, তাঁদের জন্য আজ এক ঐতিহাসিক দিন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। আজ থেকে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। পুরনো আমলের পাসপোর্ট-স্টিকার বা ‘ভিনিয়েট’ (Vignette)-এর পাট চুকিয়ে শুরু হলো আধুনিক, ডিজিটাল ই-ভিসা (eVisa)-র পথচলা। এখন থেকে ব্রিটেন ভ্রমণের আবেদন হবে আরও দ্রুত, আরও নিরাপদ এবং অনেকটাই ঝামেলাবিহীন।
ডিজিটাল বিপ্লব: পাসপোর্টের স্বাধীনতা
এতদিন পর্যন্ত ব্রিটেনের ভিসার জন্য আবেদন করলে, আপনার পাসপোর্টটি কয়েক দিনের জন্য জমা রেখে দেওয়া হতো। সেই পাসপোর্টে আঠা দিয়ে সেঁটে দেওয়া হতো একটি স্টিকার, যা ছিল আপনার দেশটিতে প্রবেশের অনুমতিপত্র। কিন্তু এখন থেকে, সেই পুরো প্রক্রিয়াটিই চলে আসছে অনলাইনে। নতুন নিয়মে, আপনাকে এখনও ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (VAC) গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য—অর্থাৎ আঙুলের ছাপ ও ছবি—জমা দিতে হবে। কিন্তু সুখবর হলো, আপনার পাসপোর্টটি আর জমা রাখা হবে না। যেদিন আপনি আবেদনপত্র জমা দেবেন, সেদিনই আপনার পাসপোর্ট আপনাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। এর মানে হলো, ব্রিটেনের ভিসার জন্য অপেক্ষা করার সময়টিতে আপনি চাইলে অন্য যেকোনো দেশে ভ্রমণের জন্য আপনার পাসপোর্টটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নিঃসন্দেহে ভ্রমণপিপাসু এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর।
ই-ভিসা কী এবং কীভাবে কাজ করবে?
সহজ কথায়, ই-ভিসা হলো আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের একটি ডিজিটাল রেকর্ড। আপনি ব্রিটেনে কোন ধরণের ভিসায় প্রবেশ করছেন, কত দিনের জন্য থাকার অনুমতি পাচ্ছেন, কাজ করার বা পড়াশোনা করার অনুমতি আছে কি না—এই সব তথ্যই অনলাইনে একটি সুরক্ষিত অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে। যখন আপনার ভিসার আবেদনটি মঞ্জুর হবে, তখন আপনাকে ইমেলের মাধ্যমে একটি নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। সেই নোটিফিকেশনে একটি লিঙ্ক থাকবে, যেখানে গিয়ে আপনাকে একটি ‘ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন’ (UKVI) অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টটিই হলো আপনার ডিজিটাল ই-ভিসার প্রবেশদ্বার। ভ্রমণের সময়, আপনার পাসপোর্টটি যদি সঠিকভাবে আপনার UKVI অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করা থাকে, তবে এয়ারলাইন্স বা অন্যান্য বাহক (Carrier) স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেক করে নিতে পারবে যে আপনার ব্রিটেনে ভ্রমণের অনুমতি আছে কি না। কোনো কাগজের স্টিকার দেখানোর আর প্রয়োজন হবে না।
কাদের জন্য এই পরিবর্তন এবং কবে থেকে?
আজ, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলো। এখন থেকে ব্রিটিশ এবং আইরিশ নাগরিক ব্যতীত বাকি সব দেশের নাগরিকরা, যাঁরা যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের সকলকেই এই ই-ভিসা দেওয়া হবে। এমনকি যাঁরা শুধু ট্রানজিট যাত্রী, অর্থাৎ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পথে ব্রিটেনে সামান্য সময়ের জন্য থামবেন, তাঁদের জন্যও ট্রানজিট ভিসা এখন ই-ভিসা হিসেবেই দেওয়া হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া অর্থাৎ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা, নথিপত্র জমা দেওয়া—এগুলো আগের মতোই থাকছে। পরিবর্তন এসেছে শুধুমাত্র ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর সেটি কীভাবে আপনার কাছে পৌঁছাবে, সেই পদ্ধতিতে।
কেন এই ডিজিটাল পদক্ষেপ? এর পেছনের যুক্তি
যুক্তরাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি বলে অভিহিত করেছেন ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনারের প্রধান (Deputy Head of Mission) ভারত দাভে (Bhaarat Dave)। তিনি বলেন, “আবেদনকারীদের এখন বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য মাত্র একবার VAC-এ যেতে হবে এবং তাঁদের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা আর পাসপোর্ট জমা রাখব না।” এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল করবে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল রেকর্ড হওয়ার ফলে ভিসার তথ্য হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নষ্ট হওয়ার কোনো ভয় থাকবে না। এটি ফিজিক্যাল ডকুমেন্টের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। তৃতীয়ত, এটি আবেদনকারীদের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক। নিজের UKVI অ্যাকাউন্টে লগইন করে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস চেক করা বা তথ্য আপডেট করা যাবে।
কারা লাভবান হবেন?
ঘন ঘন ভ্রমণকারী (Frequent Travelers): যাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য পাসপোর্ট সাথে থাকাটা খুব জরুরি। এই নতুন নিয়মে তাঁদের আর ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় পাসপোর্ট ছাড়া থাকতে হবে না।
জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী: যদি কারোর হঠাৎ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, এবং একই সময়ে ব্রিটেনের ভিসার আবেদনও চলছে, তবে তিনি এখন নির্দ্বিধায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
পরিবেশ সচেতন মানুষ: কাগজের ব্যবহার কমার ফলে এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপও বটে।
কারা সমস্যায় পড়তে পারেন?
প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত: যাঁরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য প্রথমদিকে এটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক বা যাঁদের কাছে স্মার্টফোন বা ভালো ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তাঁদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ডিজিটাল বৈষম্য (Digital Divide): যদিও UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার ব্যবস্থা থাকবে, তবুও ডিজিটাল বৈষম্যের শিকার মানুষদের জন্য এটি একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (TAFI)-র পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভ্রমণ এজেন্টরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভ্রমণকারী তাঁর পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে ভিসা প্রসেসিংয়ের সময়ও আরও কমে আসবে।”
এই ডিজিটাল রূপান্তরটি যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করবে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা।
কীভাবে পাবেন আপনার ই-ভিসা এবং তৈরি করবেন UKVI অ্যাকাউন্ট
আপনার ভিসা আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কী কী করতে হবে, তার একটি সহজ নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
- ইমেল নোটিফিকেশন: আপনার আবেদন মঞ্জুর হলে, আপনি একটি ইমেল পাবেন। সেই ইমেলে একটি লিঙ্ক থাকবে।
- Gov.uk/eVisa ওয়েবসাইটে যান: ইমেলের লিঙ্কে ক্লিক করুন অথবা সরাসরি ‘Gov.uk/eVisa’ ওয়েবসাইটে যান এবং ‘Create an Account’ অপশনটি বেছে নিন।
- ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান: আপনার ইমেল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর দিন। আপনার দেওয়া নম্বরে একটি সিকিউরিটি কোড পাঠানো হবে।
- পরিচয় যাচাই (Identity Verification): আপনার পাসপোর্ট ডিটেইলস ব্যবহার করে নিজের পরিচয় যাচাই করুন। এই ধাপটির জন্য একটি স্মার্টফোনের প্রয়োজন হবে, কারণ এতে একটি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে এবং আপনার মুখের ছবি তুলতে হবে।
- অ্যাকাউন্ট তৈরি: এই ধাপগুলো সম্পন্ন করলেই আপনার UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
- নির্ভরশীলদের জন্য অ্যাকাউন্ট: যদি আপনি পরিবারের সাথে ভ্রমণ করেন, তবে প্রতিটি সদস্যের (শিশু ও প্রবীণ-সহ) জন্য আলাদা আলাদা UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তবে সবার জন্য একই ইমেল ও ফোন নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ভ্রমণের সময়: নিশ্চিত করুন যে আপনার পাসপোর্টটি সঠিকভাবে আপনার UKVI অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করা আছে। এখন থেকে লন্ডনের বিগ বেন দেখা, বা স্কটল্যান্ডের সবুজ পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া—সবই হবে এক ডিজিটাল ক্লিকের দূরত্বে। পাসপোর্ট হাতে নিন, ই-ভিসা চেক করুন, আর বেরিয়ে পড়ুন স্বপ্নের ব্রিটেনে!
FAQ
প্রশ্ন ১: যুক্তরাজ্যের নতুন ই-ভিসা (eVisa) ব্যবস্থাটি আসলে কী?
উত্তর: ই-ভিসা হলো আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের একটি ডিজিটাল রেকর্ড। এটি পুরনো আমলের পাসপোর্টে লাগানো ফিজিক্যাল ভিনিয়েট স্টিকারের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে। আপনার ব্রিটেনে প্রবেশ এবং থাকার অনুমতির সমস্ত তথ্য এখন অনলাইনে একটি সুরক্ষিত ‘ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন’ (UKVI) অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে।
প্রশ্ন ২: এখন থেকে কি ব্রিটেনের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে?
উত্তর: না। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়মে, ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (VAC) বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার দিনই আপনার পাসপোর্ট আপনাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় পাসপোর্ট আর জমা রাখা হবে না, ফলে আপনি সেই সময়ে অন্য দেশে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রশ্ন ৩: ব্রিটেনের ই-ভিসা আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আমি কীভাবে সেটি পাব?
উত্তর: ভিসা আবেদন মঞ্জুর হলে আপনি একটি ইমেল নোটিফিকেশন পাবেন। সেখানে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে বা সরাসরি Gov.uk/eVisa ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে একটি UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। পাসপোর্ট ডিটেইলস ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করার পর এই অ্যাকাউন্টটি তৈরি হবে, যার মাধ্যমেই আপনি আপনার ডিজিটাল ই-ভিসা অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
প্রশ্ন ৪: কারা এই নতুন ইউকে ই-ভিসার জন্য যোগ্য?
উত্তর: ব্রিটিশ এবং আইরিশ নাগরিক ব্যতীত বাকি সব দেশের নাগরিকরা, যাঁরা এখন থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের সকলকেই এই ই-ভিসা দেওয়া হবে। এমনকি ট্রানজিট যাত্রীদের জন্যও এখন স্টিকারের বদলে ই-ভিসা প্রযোজ্য।
প্রশ্ন ৫: পরিবারের সাথে ভ্রমণ করলে কি সবার জন্য একটি UKVI অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট?
উত্তর: না। যদি আপনি পরিবারের সাথে ভ্রমণ করেন, তবে প্রতিটি সদস্যের জন্য (শিশু ও প্রবীণ-সহ) আলাদা আলাদা UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তবে সুবিধা হলো, সবার অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য একই ইমেল অ্যাড্রেস ও ফোন নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে।
#UKeVisa, #UKeVisa2026 #DigitalVisaUK #UKVI, #INDIA
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

