Ayushman Bharat and Annapurna Bhandar West Bengal: পয়লা জুন থেকেই রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা। স্বাস্থ্যবিমা থেকে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা— নতুন সরকারের ঘোষণায় উপকৃত হতে চলেছেন লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ এবং মহিলারা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর আজ থেকেই রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
এতদিন পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর ছিল না। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে এবার পশ্চিমবঙ্গও যুক্ত হল এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি পরিবার বছরে সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে।
বিশেষ করে সত্তর বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হলে তাঁরা এই স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, আগে থেকে থাকা রোগও এই বিমার আওতায় থাকবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বা পুরনো রোগের চিকিৎসাও এই প্রকল্পে করানো যাবে।
কী কী সুবিধা মিলবে?
এই প্রকল্পের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ নগদবিহীন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- অস্ত্রোপচার
- বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা
- ওষুধের খরচ
- হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ও পরে পনেরো দিনের চিকিৎসা ব্যয়
- গুরুতর রোগের চিকিৎসা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের অন্য রাজ্যেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ দিল্লি, মুম্বই বা দেশের অন্য শহরের তালিকাভুক্ত হাসপাতালেও এই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা মিলবে।
স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত— দুটিই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথী মূলত রাজ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য কার্যকর ছিল। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের তালিকাভুক্ত হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে নগদবিহীন এবং কাগজবিহীন পরিষেবার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে রোগী ও পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন হাসপাতালে মিলবে এই পরিষেবা?
সরকারি সূত্রে খবর, রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বহু বেসরকারি হাসপাতালও এই প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- আইরিশ বহুমুখী বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল
- বি পি পোদ্দার হাসপাতাল
- সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার কেন্দ্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- আরও একাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল
কীভাবে জানবেন কোন হাসপাতালে এই সুবিধা মিলবে?
এই সুবিধা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে প্রথমে জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
তারপর আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বিভাগে গিয়ে হাসপাতাল খোঁজার অপশনে ক্লিক করতে হবে।
সেখানে—
- জেলা অনুযায়ী অপশন নির্বাচন করুন
- রাজ্যের নাম দিন
- জেলার নাম নির্বাচন করুন
তারপরেই তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সম্পূর্ণ তালিকা দেখা যাবে।
নতুন সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী পয়লা জুন থেকেই রাজ্যে পুরোপুরিভাবে চালু হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র দুঃস্থ ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্যই চালু থাকবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো বছরে সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
সরকারি ও বেসরকারি তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সম্পূর্ণ নগদবিহীন চিকিৎসা করা যাবে। অস্ত্রোপচার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ও পরে চিকিৎসার খরচ— সবই এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের অন্য রাজ্যেও তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কারা পাবেন?
সরকারি সূত্রে খবর, এতদিন যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁরাই সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে জমা পড়বে। আগামী পয়লা জুন থেকেই এই টাকা দেওয়া শুরু হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কীভাবে টাকা আসবে?
সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। সরাসরি ব্যাঙ্কে সরকারি টাকা পাঠানোর জন্য ডিবিটি বা প্রত্যক্ষ হস্তান্তর ব্যবস্থা সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।
সেই কারণে উপভোক্তাদের—
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে
- মোবাইল নম্বর সংযুক্ত রাখতে হবে
- ব্যাঙ্ক পাসবুক আপডেট রাখতে হবে
ডিবিটি সক্রিয় থাকলেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
নতুন আবেদনকারীদের কী করতে হবে?
সরকার জানিয়েছে, যাঁরা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে নতুন আবেদন পদ্ধতি নিয়ে এখনও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। খুব শীঘ্রই সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আবেদন প্রক্রিয়া, নথিপত্র এবং যোগ্যতার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
নতুন সরকারের দাবি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতেই এই প্রকল্পগুলিকে দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

