জনগণনা ২০২৭-এ এবার ঘরে বসেই স্মার্টফোন থেকে অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া যাবে। জেনে নিন কীভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজে Census 2027 Online Registration সম্পূর্ণ করবেন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জনগণনার ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে কবে থেকে জনগণনা শুরু হবে, সেই সম্পর্কেও ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন জনগণনা নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো না হলেও নতুন সরকার গঠনের পর জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকেও জনগণনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ এই রাজ্যেও সেন্সাস বা জনগণনা অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় একশো তেতাল্লিশ কোটির কাছাকাছি। সাধারণত প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা করা হয়, যাতে দেশের মানুষের সংখ্যা, বসবাসের অবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাড়িঘর, সম্পত্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে নথিভুক্ত থাকে। শেষবার জনগণনা হয়েছিল দুই হাজার এগারো সালে। এরপর দুই হাজার কুড়িতে করোনা পরিস্থিতির কারণে জনগণনা স্থগিত হয়ে যায়।
তবে এবার জনগণনায় বড় পরিবর্তন আনছে কেন্দ্র। শুধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহর পাশাপাশি এবার সাধারণ মানুষ নিজেরাই স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে তথ্য জমা দিতে পারবেন। চালু হয়েছে “সেলফ এনুমারেশন” ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মাত্র পনেরো মিনিটে নিজের পরিবারের সমস্ত তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
আপনি জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন থেকে জনগণনার তথ্য প্রদান করবেন।
প্রথমে খুলতে হবে সরকারি ওয়েবসাইট
জনগণনার তথ্য দেওয়ার জন্য প্রথমে আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থেকে সরকারি ওয়েবসাইট
se.census.gov.in
খুলতে হবে।
ওয়েবসাইট খোলার পর হোমপেজে আপনি যে রাজ্যে বসবাস করেন, সেই রাজ্যের নাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর আপনার সামনে একটি ক্যাপচা কোড দেখা যাবে। সেটি সঠিকভাবে পূরণ করার পর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। সেই ওটিপি দিয়ে আপনার প্রোফাইল যাচাই করতে হবে।
মোবাইল নম্বর ও পরিচয় যাচাই করতে হবে
ওটিপি যাচাই সম্পূর্ণ হলে ধাপে ধাপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। যেমন—
- পরিবারের প্রধানের নাম
- মোবাইল নম্বর
- ইমেল আইডি
- বর্তমান ঠিকানা
এরপর আবার একটি ছয় সংখ্যার ওটিপি আপনার মোবাইলে যাবে। সেটি দিয়ে লগইন নিশ্চিত করতে হবে। তারপর নিজের পছন্দমতো ভাষা নির্বাচন করতে হবে।
এরপর শুরু হবে বাড়ির তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া, যাকে বলা হচ্ছে “সেন্সাস হাউস লিস্টিং”। এখানে আপনার বাড়ির বর্তমান অবস্থা, ঘরের সংখ্যা, বাড়ির ধরন ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি ধাপে তথ্য পূরণ করে সেভ করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে
পরবর্তী ধাপে পরিবারের সব সদস্যের তথ্য দিতে হবে। যেমন—
- পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা
- পরিবারের প্রধানের নাম
- বাড়ির মালিকানা কার
- বাড়িতে কতজন থাকেন
- বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা
- সন্তানের সংখ্যা
- পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা
এই সমস্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সঠিকভাবে দিতে হবে। কারণ জনগণনার তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনা ও পরিষেবা নির্ধারণ করা হয়।
বাড়ির সুযোগ-সুবিধার তথ্যও জানাতে হবে
শুধু পরিবারের তথ্য নয়, বাড়িতে কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেই তথ্যও জানাতে হবে। যেমন—
- বিদ্যুতের উৎস
- শৌচাগারের সংখ্যা
- রান্নাঘরের অবস্থা
- ইন্টারনেট সংযোগ আছে কি না
- টেলিভিশন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সংখ্যা
- মোবাইল ফোনের সংখ্যা
- সাইকেল, মোটরবাইক বা গাড়ির সংখ্যা
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “সাবমিট” বোতামে ক্লিক করতে হবে।
তথ্য জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করুন
চূড়ান্তভাবে তথ্য জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
তথ্য সফলভাবে জমা হয়ে গেলে একটি “সেলফ এনুমারেশন আইডি” দেওয়া হবে। সেই নম্বর অবশ্যই লিখে রেখে দিতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এই আইডির মাধ্যমেই আপনার তথ্য যাচাই করা যাবে।
এইভাবেই খুব সহজে নিজের স্মার্টফোন থেকেই জনগণনার সমস্ত তথ্য জমা দিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতেও দ্রুত ও সহজভাবে সম্পূর্ণ হবে জনগণনার কাজ।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

