Narendra Modi Foreign Tour 2026: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে নেদারল্যান্ডস— ছয় দিনের বিদেশ সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ছয় দিনের ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়া সফরে এবার এক অন্য মেজাজে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। এই সফরের মূল লক্ষ্য ভারত ও একাধিক দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া। সফরের শুরুতেই তিনি যান সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। এরপর নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফরের সূচি রয়েছে তাঁর।
বিদেশ সফরকে ঘিরে এর আগেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। বিদেশ সফরে অতিরিক্ত কর বা সারচার্জ বসানো হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিদেশ সফরে কোনও অতিরিক্ত সারচার্জ লাগু করা হচ্ছে না।
তবে কূটনৈতিক বৈঠক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রযুক্তি সহযোগিতার পাশাপাশি এই সফরে এক অন্য প্রসঙ্গও উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর মুখে— বাংলার ঝালমুড়ি।
নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েই নরেন্দ্র মোদী স্মরণ করেন পশ্চিমবঙ্গের সেই ঝালমুড়ির কথা। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই প্রসঙ্গ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় ঝাড়গ্রামে প্রচারে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। মাত্র দশ টাকা দিয়ে কেনা সেই ঝালমুড়ির স্বাদ যে তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে, তা এবার বিদেশের মাটিতেও স্পষ্ট হয়ে গেল।
পরবর্তীকালে তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সেই ঝালমুড়ির স্বাদ আরও বড়ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এমনকি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ঝালমুড়ির বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
এবার সেই ঝালমুড়িই যেন পৌঁছে গেল বিশ্বমঞ্চে। নেদারল্যান্ডসে ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতার সময়ও প্রধানমন্ত্রী সেই ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ তোলেন। বিদেশে বসেও ভারতীয় সংস্কৃতি, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এবং বাংলার পরিচিত স্বাদকে সামনে এনে তিনি যেন এক অন্য আবেগের বার্তা দিতে চাইলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের আবেগকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। আর সেই কারণেই কূটনীতির আলোচনার মাঝেও উঠে এসেছে বাংলার রাস্তার চেনা স্বাদ— ঝালমুড়ি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছয় দিনের ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়া সফরে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেল নেদারল্যান্ডস সফর। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে পৌঁছতেই প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে উঠেছিলেন, সেখানে তাঁকে নৃত্য, সঙ্গীত এবং ভারতীয় সংস্কৃতির নানা পরিবেশনার মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রবাসী ভারতীয়দের উপস্থিতিতে যেন ছোট্ট এক ভারত গড়ে উঠেছিল হেগ শহরে।
জমকালো এই স্বাগত অনুষ্ঠানে ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন রঙ উঠে আসে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সঙ্গীত এবং নৃত্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়রা। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের এই আবেগ ও ভালোবাসাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
তবে এই সফর শুধুই আবেগ বা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন সেখানকার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। তিনি নেদারল্যান্ডসের রাজা এবং রানীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
এই বৈঠকে মূলত প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রিন হাইড্রোজেন, উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তি, শক্তির ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই জায়গায় ভারত ও নেদারল্যান্ডসের এই সহযোগিতা আগামী দিনে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। একদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতির উপস্থিতি তুলে ধরা— দুই দিক থেকেই নরেন্দ্র মোদীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঁচ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাজধানী আবুধাবিতে। সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান। কূটনৈতিক মর্যাদা মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গার্ড অফ অনারও দেওয়া হয়।
আবুধাবিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ানের আলোচনায় মূল গুরুত্ব পায় তেল, জ্বালানি এবং শক্তি সহযোগিতা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা এবং মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, তেল সরবরাহ, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যতের শক্তি প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অর্থনীতি নয়, জ্বালানি এবং কৌশলগত ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

